About

শিক্ষার পরিবেশ তৈরি

ক্ষমতার রাজনীতির মুখাপেক্ষী ছাত্র-রাজনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে আমরা জাহাঙ্গীরনগরের বর্তমান ও পুরাতন ছাত্রছাত্রীরা এক হয়েছি। কেননা বর্তমান ধারার এই নোংরা-অপরাজনীতির কারনে ক্যাম্পাসগুলোতে একের পর এক ঘটে যাচ্ছে নৃশংস ঘটনা, অন্তর্কোন্দলে আহত ও নিহত হচ্ছে অনেক ছাত্ররা, এরা জড়িয়ে পড়ছে দুর্নীতি-অনিয়ম-চাঁদাবাজি-ছিনতাইসহ নানা অপকর্মে। এর জের ধরেই সম্প্রতি আমাদের ক্যাম্পাসে ন্যাক্কারজনকভাবে নিহত হলো ইংরেজী বিভাগের ছাত্র জুবায়ের। ৮ই জানুয়ারি প্রতিপক্ষের তথাকথিত নেতাকর্মীদের উপর্যুপরি আঘাতে মারাত্মক আহত হয়ে পরদিন ভোরে সে মারা যায় ঢাকার একটি হাসপাতালে। পরবর্তিতে ভিসি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সাফ জানিয়ে দেয় এই ক্যাম্পাসে যেহেতু ছাত্রলীগের কমিটি নেই, সেহেতু এই ঘটনার দায়িত্ব তারা কেউ নিবেনা। কমিটি না থাকা সত্ত্বেও ছাত্রলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে যারা ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়িয়েছে, নানা সুবিধা নিয়েছে, ভিসির নানা কর্মকান্ডে সহায়তা করে ভাগ নিয়েছে তারা তাহলে কে? আমরা জানি, এরা ছাত্রলীগ, কেননা আমরা আগেও এমন দেখেছি। আমাদের দাবিগুলোর মধ্যে মাত্র ১টি এখন পর্যন্ত পূরণ হয়েছে--প্রক্টর পদত্যাগ করেছে, কিন্তু বাকি সবই এখনো হয়নি। তাই আন্দোলন চলছে, প্রতিদিনই কিছু না কিছু হচ্ছে। যতদিন না এই খুনের বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি হচ্ছে এবং খুনিদের বিচার হচ্ছে ততদিন চলবে এই আন্দোলন। তাছাড়া সময়ের আবর্তনে আরো কিছু জোরালো দাবি আসতে পারে, যেমন অনির্বাচিত ভিসির পদত্যাগ। তাছাড়া বিগত দিনগুলোতে ঘটে যাওয়া খুন-সঙ্ঘর্ষের ঘটনাগুলোরও বিচার ও দোষীদের শাস্তি দাবি করছে আন্দোলনকারীরা। আমার মনে হয় আন্দোলন ঠিক গতিতেই চলছে কেননা লঙ্কাকান্ড করতে গেলে হয়তো খুব দ্রুত ভিসি'র পদত্যাগ হবে, বিচার বিভাগীয় তদন্ত হবে, কিন্তু পরিস্থিতি আর ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষে থাকবেনা। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কখনো সহিংস হতে পারেনা।

আর বাস্তবতা বিচারে আমি ধরে নিচ্ছি ছাত্র-রাজনীতি (অর্থ্যাৎ ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের মারমুখী ধারার নোংরা রাজনীতি) বন্ধ করাও সম্ভব না। সেক্ষেত্রে আমাদের কঠোর দাবি হতে পারে "ছাত্র-সংসদ চালু করা"--যার ফলে প্রশাসনে ছাত্রদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। আর তখনই প্রশাসন ও ছাত্রদের সকল কর্ম-অপকর্মের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হতে পারে।

আর গুনুগত ও দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন -- মানে ছাত্র-ছাত্রীদের জাগরন বা সচেতনতা বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর কন্ঠ -- চালিয়ে যেতে হবে সারা বছর।

এর ফলে ওইসব ছোটলোক-ফালতু ছাত্ররা যারা নানা সুবিধা নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি করে এবং অন্যান্য গোষ্ঠীর সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে তারা একটু ভয় পাবে যা খুশি তাই করতে আর পাশাপাশি কুশিক্ষকেরা অপরাজনীতি ও অনাচারের অভ্যাস পরিবর্তন করতে বাধ্য হবে।