Back to We demand the Trial of all listed War Criminals of The Liberation War of Bangladesh

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসীর রায় দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল

Iq

১৩ই এপ্রিল, ১৯৭১।

চট্টগ্রামের গহিরায় কুন্ডেশ্বরী ঔষধালইয়ে ঢোকে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী। ঔষধালয়ের মালিক নূতন চন্দ্র সিংহকে গুলি করে তারা এক স্থানীয় নেতার নির্দেশে। বুকে, মুখে গুলি খেয়ে যখন মাটিতে পড়ে মৃত্যুযন্ত্রনায় ছটফট করছিলেন নূতন চন্দ্র সিংহ, তখন তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে নিজ হাতে গুলি চালান সেই নেতা। সেই ঘরের দোতলায় লুকিয়ে সেই রক্ত-হিম-করা দৃশ্য দেখেন গোপাল চন্দ্র দাস। নূতন চন্দ্র সিংহের ভাইপো গৌরাঙ্গ চন্দ্র সিংহকে সে ঘটনার বর্ণনা দেন তিনি।
শুধুমাত্র চাক্ষুস সাক্ষী নয়, নূতন চন্দ্রকে হত্যার দালিলীক প্রমাণ পাওয়া যায় তার এক বছর পর ১৩ই এপ্রিল ১৯৭২ এ বাংলার কাগজ পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে।

১৯৭১ এর সেই একই দিনে সেই নেতা পাক সেনাদের এক দল নিয়ে যান চট্টগ্রামের বনিকপাড়ায়, হিন্দুদের বাসাবাড়িতে আক্রমন করতে। সেই হামলায় চারজন নিহত হয়। গুলির আঘাত থেকে গ্যাংরীন হয়ে বাঁ হাত কেটে ফেলে দিতে হয় অনিল বরণ ধরের।

-----------------------------------------------------------------------------

২৬শে জুলাই, ২০১০।

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মামলা করা হয় দেশের প্রথম সারির রাজনৈতিক দলের এই প্রতাপশালী নেতার বিরুদ্ধে।

-----------------------------------------------------------------------------

১৬ই ডিসেম্বর, ২০১০।

গাড়ি পুড়িয়ে মানুষ মারার মামলায় গ্রেফতার করা হয় সেই নেতাকে। তার তিন দিন পর যুদ্ধাপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় তাকে।

-----------------------------------------------------------------------------

৩রা অক্টোবর, ২০১১।

যুদ্ধাপরাধের তদন্তে গঠিত কমিটি মোট ৩২টি অপরাধের সঙ্গে এই নেতার যোগাযোগ খুঁজে পেয়ে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন প্রসেকিউশনের কাছে দাখিল করে।

-----------------------------------------------------------------------------

১৪ই নভেম্বর ২০১১।

গণহত্যা, অপহরন, ধর্ষন, নির্যাতন ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরসহ মোট ২৪টি অভিযোগ প্রসেকিউশনের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয় এই প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে, ৫৪ পৃষ্ঠার সেই অভিযোগপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয় প্রায় ৮,০০০ পৃষ্ঠার সাক্ষীদের জবানবন্দী ও অন্যান্য দলিল।

-----------------------------------------------------------------------------

৪ই এপ্রিল ২০১২।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২৩টি অভিযোগ গঠন করে এই নেতার বিরুদ্ধে।

-----------------------------------------------------------------------------

১৪ই মে, ২০১২।

আদালত তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করে। মোট ৪১ জন সাক্ষ্য দেন এই নেতার বিপক্ষে; তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেয়া আরো ৪ জনের জবানবন্দীকে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে আদালত।

অপরদিকে তার পক্ষে সাফাই সাক্ষী দেন তিনি নিজে সহ ৪ জন।

-----------------------------------------------------------------------------

প্রসেকিউশনের যুক্তিতর্ক শেষে ৩১শে মে, ২০১৩ থেকে ১৪ই আগস্ট পর্যন্ত আসামীপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে। এরপরই কার্যক্রম সমাপ্ত করে মামলাটির রায় অপেক্ষমান রাখা হয়।

-----------------------------------------------------------------------------

৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৩

বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই মামলার রায়ের জন্য অক্টোবর ১, ২০১৩ দিন ধার্য্য করেন।

-----------------------------------------------------------------------------

অক্টোবর ১, ২০১৩।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আধালতের দেয়া ৭ম (এবং জামাত নেতাদের বাইরে প্রথম) রায়ে সেই ঘৃণ্য পশু, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে __________ অভিযোগে _______ দন্ড দেয়া হয়।

-----------------------------------------------------------------------------
০১, অক্টোবর ২০১৩

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসীর রায় দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল

জয় বাংলা

3 comments

to comment